Project Rainbow the Philadelphia Experiment রহস্য

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়, একটি ছোট ধ্বংসকারী এসকোট U.S.S Eldridge জাহাজের উপর পরিচালিত একটি পরীক্ষা ছিল Project Rainbow। শত্রুদের শনাক্ত করে তাদের অপ্রচলিত বা অচল করে দেয়াই ছিল Project Rainbow – এর মূল লক্ষ্য।

Project Rainbow রহস্য

জুলাই ১৯৪৩, আমেরিকার Delaware Bayতে নৌবাহিনী বা যুদ্ধযাহাজ সম্পর্কিত গবেষণা করার জন্য ধ্বংসকারী U.S.S Eldridge কে নিয়ে আসা হয়। এই গবেষণার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল  U.S.S Eldridge কে অদৃশ্য ও দুর্ধোধ্য করা। প্রকল্পটির আধিকারিক নাম প্রজেক্ট রেইনবো, কিন্তু এই অপারেশনটি সাধারণভাবে Philadelphia Experiment নামে পরিচিত।

Philadelphia Experiment-এ অদৃশ্যতা সম্পর্কিত কাল্পনিক পরীক্ষায় তখন বেশ কিছু লেখা লেখি এবং অনেকিছু অনুমান করা হয়। কিন্তু কল্পনা থেকে সত্যতে রুপান্তরিত করা একটি অসম্ভব কাজ, বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়। ১৯৫৫ সালে গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। একজন লেখক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী Morris K. Jessup কে অজানা মূল অক্ষরের চিঠি পাঠিয়েছিলেন Philadelphia Experiment সম্পর্কিত। কিন্তু এই ঘটনাকে ব্যাপকভাবে ভুল বলে আখ্যা দেয়া হয়েছিল কারণ সেই সময়ে  মার্কিন নৌবাহিনী বলছিল যে এই ধরনের কোনো পরীক্ষা পরিচালিত হয়নি। নৌবাহিনীর এই বিবরণ  USS Eldridge সম্পর্কে প্রতিষ্ঠিত ঘটনাকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে যা এখনও একটি অমীমাংসিত রহস্য ।

সম্ভবত U.S.S Eldridge ছিল তখনকার সবথেকে উন্নত এবং শ্রেণীবদ্ধ যুদ্ধজাহাজ। Project Rainbow তদন্ত করে দেখা গিয়েছিল যে অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের Unified Field Theory of Gravitation এবং বিদ্যুৎ তত্ত্ব কাজে লাগিয়েছিল। সমুদ্রের ছদ্মবেশী U.S.S Eldridge  জাহাজকে সহায়তা এবং আরও শক্তিশালী করার জন্য এই তত্ত্ব ব্যবহৃত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। এই গবেষণার লক্ষ্য ছিল  তীব্র ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্ষেত্র ব্যবহার করে টর্পেডো থেকে জাহাজগুলিকে সুরক্ষিত করা। ১৯৪৩ সালে  U.S.S Eldridge -এ পরীক্ষামূলক ভাবে প্রচুর ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম লাগান হয়েছিল।

ইলেকট্রনিক সরঞ্জামগুলি হচ্ছে-

  • বৃহৎ আকারের ২ টি জেনারেটর লাগিয়েছিল যেখানে জাহাজের Forward Gun Turret ছিল,
  • জাহাজের ডেকের উপরে ৪ টি চৌম্বক কয়েল লাগানো হয়েছিল,
  • এছাড়াও জাহাজের ডেকে 3 RF ট্রান্সমিটার লাগানো হয়েছিল,
  • 3000 “6L6” পাওয়ার এম্প্লিফায়ার টিউব ২ টি জেনারেটরের ফিল্ড কয়েল চালানোর জন্য সংযুক্ত করা হয়েছিল,
  • বিশেষ সমন্বয় মড্যুলেশন সার্কিট এবং
  • একটি বিশেষ হোস্ট হার্ডওয়্যার।

যন্ত্রগুলো চালানো হলে, যন্ত্রগুলি ব্যাপকভাবে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্ষেত্র উৎপন্ন করতে সক্ষম হতো। প্রচন্ড ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্ষেত্র উৎপন্ন করতে সক্ষম যন্ত্রগুলিকে সঠিক ভাবে কনফিগার করা হয়েছিল যাতে সব কিছু ঠিক থাকে। যন্ত্রগুলি ব্যাপকভাবে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্ষেত্র উৎপন্ন করার মাধ্যমে জাহাজের চারপাশে আলো এবং রেডিও তরঙ্গকে ঘিরে ফেলতে সক্ষম হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই, ১৯৪৩ সালে যন্ত্রগুলো থেকে সৃষ্ট  ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্ষেত্র ৯০০ ঘন্টার মধ্যে U.S.S Eldridge কে অদৃশ্য করে ফেলে। জেনারেটরের ক্ষমতা চালু থাকার কারণে জাহাজে ধীরে ধীরে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্ষেত্র বাড়তে থাকে। একটি সবুজ কুয়াশা জাহাজ enwrap দেখা গিয়েছিল যা পরবর্তীতে জাহাজকে আবার দৃশ্যমান করে তলে। U.S.S Eldridge জাহাজটি কেবলমাত্র কিছু মুহুর্ত আগেই অদৃশ্য ছিল যা রহস্যময় ভাবে আবার দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই U.S.S Eldridge নরফোকের ভার্জিনিয়া থেকে কয়েক মাইল দূরে চলে যায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে  আবার U.S.S Eldridge দেখা যায়। জাহাজটি তখন নরফোক থেকে রহস্যময়ভাবে অদৃশ্য হয়ে যায় যেমন ফিলাডেলফিয়া নাভাল ইয়ার্ডে রহস্যময়ভাবে ফিরে ফিরে এসেছিল। তখন তারা বুঝতে পেরেছিল যে U.S.S Eldridge- এ কিছু ভয়ানক ভুল হয়ে গিয়েছিল। অধিকাংশ নাবিকরা হিংস্র এবং অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। কিছু জাহাজের ক্রু অনুপস্থিত ছিল পরবর্তীতে তারা কখনই ফিরে আসেনি এবং পরবর্তীতে তাদেরকে আর খুঁজে পাওয়া যায় নি যা একটি অমীমাংসিত রহস্য ।  এবং যারা যারা জাহাজে করে ফিরে এসেছিল তারা সবাই পাগল হয়ে গিয়েছিলেন।  কিন্তু সবাইকে হতাশ করেছিল একটি ঘটনা, জাহাজের কাঠামোর মধ্যে পাঁচজনকে ধাতবের সাথে যুক্ত করে রাখা হয়েছিল। এই রহস্য এখনও অমীমাংসিত তারা এর রহস্য ভেদ করতে পারেনি। পরবর্তীতে নৌবাহিনী জাহাজের সব রেকর্ড ধ্বংস করে ফেলে এবং Project Rainbow -কে “উচ্চতর গোপন রহস্য” হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়।

প্রধানত সাক্ষী সংখ্যা অভাবের কারণে ১৯৪৩ সালের সেই দিনে কি ঘটেছিল তা এখনও জানা যায় নি। Project Rainbow -কে বিশদ বিবরণের জন্য কোনও ডকুমেন্টেশন উপলব্ধ নেই। এটি কেবল একটি Degaussing পরীক্ষা হতে পারে। কিন্তু ভার্জিনিয়ায় পরে কীভাবে ধ্বংসকারী U.S.S Eldridge সেকেন্ডে সেকেন্ডে প্রদর্শিত হয়? উত্তরটি কখনই জানা যাবে না। এটি একটি অমীমাংসিত রহস্য থেকে যাবে। তবে Delaware Bayতে যা ঘটেছিল সে রহস্য সমাধান করা যেতে পারে একটি উপায়ে। যদি বিজ্ঞানীরা পুরুরায় পরীক্ষাটি করে তাহলে Delaware Bay -এর রহস্যের সমাধান হতে পারে।

আজকের মত এই পর্যন্তই। Project Rainbow –এর মত আরও অসংখ্য অমীমাংসিত রহস্য রয়েছে যেগুলোর উত্তর আজও খুঁজে পাওয়া যায় নি। সে সমস্ত রহস্য নিয়ে TechBartaBD আবারও ফিরে আসবে আপনাদের মাঝে। সে পর্যন্ত ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এবং আমাদের সাথেই থাকবেন।

আল্লাহ্‌ হাফেজ…

Share This

2 thoughts on “Project Rainbow the Philadelphia Experiment রহস্য

  1. Hello! I could have sworn I’ve been to this blog before but after browsing through some of the post I realized it’s new to me. Anyways, I’m definitely happy I found it and I’ll be book-marking and checking back frequently!

  2. An impressive share, I just given this onto a colleague who was doing a little analysis on this. And he in fact bought me breakfast because I found it for him.. smile. So let me reword that: Thnx for the treat! But yeah Thnkx for spending the time to discuss this, I feel strongly about it and love reading more on this topic. If possible, as you become expertise, would you mind updating your blog with more details? It is highly helpful for me. Big thumb up for this blog post!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *