ICT কি? ICT-র অবদান বা সুবিধা এবং উপাদান।

বর্তমান যুগ ICT বা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর যুগ। প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া বিভিন্ন তথ্যকে কাজে লাগিয়েই মানুষ সৃষ্টি করছে সহজ, সুন্দর এ বিশ্বজগৎ। কম্পিউটারনির্ভর তথ্য প্রযুক্তি বর্তমানে সমাজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে সহায়ক শক্তি হিসাবে এর আসন প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে। ১৯৮০ সালের দিকে একাডেমিক গবেষকরা প্রযুক্তিতে ICT শব্দটির ব্যবহার শুরু করেন। ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্য সরকারকে দেওয়া এক প্রতিবেদনে Stevenson ICT শব্দটি উল্লেখ করেন, যা পরবর্তী তিন বছর পরে ২০০০ সালে যুক্তরাজ্যের নতুন জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে ICT শব্দটি সংযোজন করা হয়। আজকের আর্টিকেলে, ICT কি? ICT এর অবদান বা সুবিধা এবং ICT এর উপাদান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা ICT কি?

ICT এর পূর্ণ অর্থ  Information and  Communication Technology অর্থাৎ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা ICT কি? জানতে হলে, আমাদের আগে জানতে হবে  তথ্য প্রযুক্তি কি এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি কি?

তথ্য প্রযুক্তি (Information Technology): 

যে প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য দ্রুত আহরণ, প্রয়োজন অনুযায়ী সংরক্ষণ, আধুনিকীকরণ, ব্যবস্থাপনা এবং বিতরণ করা  হয় তাকে তথ্য প্রযুক্তি বলে। তথ্য প্রযুক্তিকে Infomation Technology বা It বলা  হয়।

যোগাযোগ প্রযুক্তি (Communication Technology):

কম্পিউটারের উপর নির্ভর করেই সারা বিশ্বের যোগাযোগ বাবস্থা গড়ে উঠেছে। তথ্যকে অন্য স্থানে এক বা একাধিক কম্পিউটার থেকে অন্য ডিভাইসে আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তিকে যোগাযোগ প্রযুক্তি বলে।

আমারা তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সংজ্ঞা হতে বলতে পারি  ICT কি। অর্থাৎ তথ্য প্রযুক্তির সাথে যোগাযোগ প্রযুক্তি ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা Information and  Communication Technology বলা হয়। তথ্য প্রযুক্তির মূলে রয়েছে আধুনিক টেলিযোগাযোগ, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট বাবস্থা।

১৯৮০ সালের দিকে একাডেমিক গবেষকরা প্রযুক্তিতে ICT শব্দটির ব্যবহার শুরু করেন। ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্য সরকারকে দেওয়া এক প্রতিবেদনে Stevenson ICT শব্দটি উল্লেখ করেন, যা পরবর্তী তিন বছর পরে ২০০০ সালে যুক্তরাজ্যের নতুন জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে ICT শব্দটি সংযোজন করা হয়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবদান বা সুবিধা

  • তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ডেটা স্থানান্তরের গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
  • কাজের গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
  • কম সময়ে  বেশি তথ্য স্থানান্তর সম্ভব হচ্ছে, ফলে খরচ কম হচ্ছে।
  • সময় ও কাজের অপচয় কম হচ্ছে।
  • তথ্য প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের ফলে ব্যবহারকারী  এবং দ্রব্য উৎপাদকের মধ্যে সমন্বয় ঘটছে।
  • তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির ফলে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে অনলাইনে ক্লাসে অংশ গ্রহন করতে পারছে।
  • তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির ফলে ঘরে বসে অনলাইনে কেনাকাটার সুবিধা পাচ্ছে।
  • মানুষের শক্তির অপচয় কম হচ্ছে।
  • সহজে তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণ করতে পাচ্ছে।
  • মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উপাদান

তথ্য প্রযুক্তিতে বর্তমানে যে সব মৌলিক উপাদান ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলো হলো-

  • কম্পিউটার এবং নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা
  • ইন্টারনেট
  • কম্পিউটিং
  • স্যাটেলাইট
  • টেলিভিশন
  • আধুনিক টেলিযোগাযোগ
  • অডিও ভিডিও
  • মাইক্রোওয়েভ
  • রেডিও
  • টেলেক্স
  • ফ্যাক্স ইত্যাদি

বর্তমান বিশ্ব তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ছাড়া অচল। বর্তমান বিশ্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবদান নেই এমন কোনো ক্ষেত্র আমার জানা মতে নেই। তাই আমাদের সবাইকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা থাকতে হবে এবং দৈনন্দিন জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে জানতে হবে।

আজকের মতো এ পর্যন্তই। আর্টিকেলটি সম্পর্কে আপনার যেকোনো প্রশ্ন এবং মন্তব্য থাকলে কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। সবাই ভালো থাকবেন।

খোদা হাফেজ…

Share This

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *