Bitcoin কি? Bitcoin কিভাবে কাজ করে?

বিটকয়েন ইন্টারনেটের একটি ভার্চুয়াল মুদ্রা, যা বহু বছর ধরে বিদ্যমান। বিটকয়েন সম্পর্কে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে। Bitcoin কোথা থেকে আসে? Bitcoin কি বেআইনি? আমি কিভাবে বিটকয়েন পেতে পারি? বিটকয়েন কি ক্যাশে রূপান্তর করা যায়? আজ এই বিষয় গুলি সম্পর্কে আলোচনা করব। তো চলুন, শুরু করা যাক।

Bitcoin কি?

Bitcoin ইলেকট্রনিক মুদ্রা বা ক্রিপ্টকারেন্সি নামে পরিচিত। বিটকয়েন ডিজিটাল মুদ্রার একটি রূপ। বিটকয়েন জটিল গাণিতিক গণনা দ্বারা তৈরি যা লক্ষ লক্ষ কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের দ্বারা সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয় । এই পরিচালকদের মাইনর (miners) বলে। এই মুদ্রার উপর দেশের সরকারের কোন নিয়ন্ত্রন থাকে না। তাই হ্যাকার ও ডার্কওয়েবে সেলারদের কাছে এটি খুবই জনপ্রিয়। বিটকয়েন বেআইনি না। কোন দেশে এখনও বিটকয়েন নিষিদ্ধ করা হয় নি। কিন্তু এটি ব্যবহারে সামান্য ঝুকি রয়েছে। বিটকয়েন লেনদেনের জন্য গ্রাহক ও গ্রহিতা উভয় কে ৩য় পক্ষের উপর আস্থা রাখতে হয়। মাইনরাই এখানে ৩য় পক্ষ হিসেবে কাজ করে।

Bitcoin এর উৎপত্তিঃ

প্রকৃতপক্ষে Bitcoin কে আবিষ্কার করেছে তা এখনও জানা সম্ভব হয় নি। ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে একব্যক্তি সাতোশি নাকামোতো (Satoshi Nakamoto) ছদ্মনাম ব্যবহার করে একটি গবেষণার ফলাফল ইন্টারনেটে প্রকাশ করে। গবেষণার শিরোনাম ছিল “Bitcoin: A Peer-to-Peer Electronic Cash System”। এই গবেষণায় তিনি ধারনা দেন কিভাবে কোন ব্যাংক বা মধ্যস্ত প্রতিষ্ঠানের সাহায্য ছাড়াই পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে লেনদেন করা যাবে। এই পদ্ধতিটি পেয়ার টু পেয়ার অর্থ্যৎ এক ব্যবহারকারী থেকে অন্য ব্যবহারকারীর কাছে টাকা সরাসরি পাঠানো সম্ভব তার ব্যাখ্যা করে।

তার এই গবেষণার হাত ধরেই ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে প্রথম বিটকয়েন বাজারে আশে। সাতোশি নাকামোতো প্রথম বিটকয়েন মাইনিং এর জন্য সফটওয়্যার তৈরী করেন। তার এই ছদ্মনাম অনুসারে বিটকয়েনের এককের নাম নির্ধারন করা হয় সাতোশি। ১০,০০,০০,০০০ (দশ কোটি) সাতোশি সমান ১ বিটকয়েন।

Bitcoin কি ভাবে কাজ করে?

বিটকয়েন সম্পূর্ণ ভার্চুয়াল একটি মুদ্রা। এটি নিজেই নিজের মূল্য সংরক্ষন করতে পারে, ব্যাংক বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন পরে না বিটকয়েন সংরক্ষন করার জন্য। বিটকয়েন স্বর্ণের মত আচরন করে। এটি স্বর্ণের মতই নিজের মূল্য হ্রাস বৃদ্ধি করে এবং ইচ্ছাতম সময়ে বিনিময় করা যায়। বিটকয়েন সঞ্চয় করে ভবিষ্যতে মূল্য বৃদ্ধি হলে তা বিক্রয় করে অনেক অর্থ আয় করা সম্ভব। কিন্তু সব সময় বিটকয়েনের মূল্য বৃদ্ধি হয় না, মাঝে মাঝেই বিটকয়েনের মূল্য হ্রাসও পায়।

বিটকয়েন ব্লক চেইনের (Blockchain) মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ব্লক চেইন খুবই সাধারন একটি খতিয়ান। প্রতিটি ব্যবহারকারী ও তার ব্যক্তিগত বিটকয়েন ওয়ালেটের জন্য ব্লকচেইন ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। লেনদেনের প্রামাণস্বরূপ সমস্ত বিটকয়েন ট্রানজেকশন একটি পাবলিক খতিয়ানে লিপিবদ্ধ হয়। এই প্রক্রিয়াটি বিটকয়েন জালিয়াতি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। বিটকয়েন ডিজিটাল ওয়ালেটে ওয়ালেটের নাম অনুসারে লিপিবদ্ধ হয়, ব্যক্তিগত নামে লিপিবদ্ধ হয় না। তার মানে হল বিটকয়েন ট্রানজেকশন সম্পূর্ণ পরিচয় গোপন করে (Anonymously) করা সম্ভব। যদিও অন্য কেউ আপনার ব্যক্তিগত পরিচয় সহজে দেখতে পাবে না কিন্তু তারা আপনার বিটকয়েন ওয়ালেটের ট্রানজেকশন হিস্ট্রি দেখতে পারবে।

কোন বিটকয়েন ওয়ালেটে বিটকয়েন পাঠানো হলে তা মডারেসনের জন্য পেন্ডিং থাকে। কোন একজন মাইনর লেনদেন টি এপ্রুভ না করলে বিট কয়েন অপর প্রান্তের ওয়ালেটে পৌছাবে না। এই মডারেসনের জন্য মাইনরকে কিছু সাতোশি পরিশোধ করতে হয়। একটি শক্তিশালী কম্পিউটার থাকলে যেকেউ বিটকয়েন মাইনর হতে পারে।

সাধারণ মুদ্রা দেশের সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। যখনই প্রয়োজন হয় তারা নতুন মুদ্রা উৎপাদন করে। বিটকয়েনের এইরকম কোন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। কিন্তু Bitcoin তৈরির একটি সীমা আছে। সারা বিশ্বে মোট বিটকয়েন ২১ মিলিয়নে পৌঁছানোর পর বিটকয়েন উৎপাদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে । বিটকয়েনের পরিমাণ যদি খুব বেশি হয় তাহলে তার দাম কমে

বিটকয়েন

যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই কারণে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারনা করা হয়। প্রায় ১১ মিলিয়ন Bitcoin বর্তমানে বাজারে বিদ্যমান। প্রতি ঘন্টায় প্রায় ২৫ টি নতুন বিটকয়েন উৎপাদিত হচ্ছে।

বিটকয়েনের বাজার মূল্য প্রতি নিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৬ এর শুরু তে প্রতি বিটকয়েনের মূল্য ছিল মাত্র ১০০০ ডলার। কিন্তু ১০ নভেম্বর ২০১৭ অনুযায়ি প্র্রতি বিটকয়েনের মূল্য ৭২৬৬.৪১ ডলার। যা অনুমানের তুলনায় অনেক বেশি। ভবিষ্যতে এর মূল্য আর‌ও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। Bitcoin বর্তমানে খুব জনপ্রিয় লেনদেন ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, প্রতি মাসে প্রায় ২.৯ থেকে ৫.৭ মিলিয়ন ব্যবহারকারী নিয়মিত বিটকয়েন ব্যবহার করছে।

বিটকয়েন এর সুবিধা সমূহঃ

১। লেনদেনে সরকারের কোন নিয়ন্ত্রন থাকে না।
২। কোন ব্যাংকের সাথে যোগাযোগের প্রয়োজন পরে না।
৩। লেনদেনে পরিচয় গোপন থাকে।
৪। স্বল্প সময়ে যেকোন জায়গায় টাকা পাছানো সম্ভব হয়।
৫। সঞ্চয়ের মাধ্যমে পরবর্তিতে অধিক মূল্যে বিক্রয় করা যায়।

বিটকয়েন এর অসুবিধা সমূহঃ

১। মাইনর ট্রানজেকশন এপ্রুভ করতে অনেক সময় মাত্রাতিরিক্ত সময় নিয়ে থাকে।
২। অকেন সময় বেআইনি কাজে ব্যবহার করা হয়।
৩। কোন সেবা না পেলে তার মূল্য আর ফেরত পাওয়া যায় না।
৪। বিটকয়েন ওয়ালেট নষ্ট হয়ে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া যায় না।
৫। বাজার মূল্য অস্থিতিশীল।

অনেকেই এখন অনলাইন মাধ্যমে বিটকয়েন উপার্জন করছে। বিটকয়েন উপার্জন করার জন্য অনেক ওয়েবসাইট আছে, কিন্তু বেশিরভাগ ওয়েবসাইটেই গ্রাহক প্রতারিত হয়। সব চাইতে বিশ্বাসযোগ্য বিটকয়েন আয়ের উৎস হল মাইনর হিসেবে কাজ করা। বিটকয়েনকে অনেক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সহজেই পেজা বা বিকাশ দিয়ে অর্থ উত্তলন কার যায়। কিন্তু উত্তলনের পূর্বে দেখে নিবেন সাইট টি কতটুকু বিশ্বাস যোগ্য।

তাহলে আজকের মতো এ পর্যন্তই। কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করতে পারেন। দেখা হবে অন্য কোন টপিক নিয়ে।

আল্লাহ হাফেজ।

Share This

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *