নিউক্লিয় বল (Nuclear Froce)

TechBartaBD-র পক্ষ থেকে আজ শিক্ষা বিষয়ক একটি আর্টিকেল আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখন থেকে শিক্ষা বিষয়ক যে কোনো টপিক নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে আপনারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা চেষ্টা করব আপনাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান করতে।

নিউক্লিয় বল কি?

নিউক্লিয়াসের মধ্যে প্রোটন এবং নিউট্রনগুলো তীব্র আকর্ষণ বলের প্রভাবে পরস্পরের সঙ্গে আবদ্ধ থাকে।  এক ধরনের আন্তঃক্রিয়ার জন্যই নিউক্লিয়াসের মধ্যে ক্রিয়ারত এ বলের উদ্ভব হয়। এ আন্তঃক্রিয়াকেই প্রবল আন্তঃক্রিয়া বা নিউক্লিয়  আন্তঃক্রিয়া (Stromg Interaction or Nuclear Interaction) এবং ক্রিয়ারত বলটিকে নিউক্লিয় বল বলে।

সুতরাং পরমাণুর নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান প্রোটন ও নিউট্রন যে ক্ষুদ্র পাল্লার একটি শক্তিশালী বল দ্বারা সংঘবদ্ধ অবস্থায় থাকে তাকে নিয়ক্লিয় বল (Nuclear Froce) বলে।

এখনো বুঝতে সমস্যা হচ্ছে? আরো সহজ ভাষায়, যে বল দ্বারা নিউক্লিয়াসের মধ্যে প্রোটন ও নিউট্রন সমূহ দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত থেকে নিউক্লিয়াস গঠন করে তাকে নিউক্লিয় বল বলে (Nuclear Froce) ।

নিউক্লিয় বলের উৎস

যে কোন অণুতে পরমাণুসমূহের মধ্যকার বন্ধন শক্তি অপেক্ষা নিউক্লিয় বল প্রায় ১০০০০০০ গুন বেশি। পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থানরত প্রোটন-প্রোটন বিকর্ষণ বল বেশ তীব্রতর এবং এ বিকর্ষণ বল থাকা সত্ত্বেও নিউক্লিয়নসমূহ নিউক্লিয় বলের দ্বারা একত্রে অবস্থান করে এবং নিউক্লিয়াস গঠন করে। নিউক্লিয় বল অন্যান্য সকল প্রকার বল যেমনঃ মধ্যাকর্ষণ বল বা কুলম্বিক আকর্ষণ ও বিকর্ষণ বল হতে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এবং অধিক তিব্রতর। নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে প্রোটন ও নিউট্রনের নিন্মরূপ তিন ধরনের মিথষ্ক্রিয়াই হলো নিউক্লিয় বলের উৎস।

 নিউক্লিয় বলের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যঃ

নিউক্লিয় বলের বেশ কিছু বৈশিষ্ট রয়েছে তার মধ্যে আপনাদের মাঝে প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট তুলে ধরা হলো…

১. নিউক্লিয় বল একটি আকর্ষণধর্মী বলঃ

নিউক্লিয় বল একটি আকর্ষণধর্মী বল এবং তা প্রোটন-প্রোটন বিকর্ষণ বল অপেক্ষা শক্তিশালী। যদি এ বল প্রোটন-প্রোটন বিকর্ষণ বল অপেক্ষা শক্তিশালী না হতো তবে একাধিক প্রোটন কখনই নিউক্লিয়াসে অবস্থান করতো না তথা নিউক্লিয়াস গঠিত হতো না।

২. নিউক্লিয় বলের আওত্তা খুবই সীমাবদ্ধ অর্থাৎ এ বলের পাল্লা অতীব ক্ষুদ্রঃ

নিউক্লিয় বল একটি স্বল্প পরিসরীয় বল। কারণ নিউক্লিয় বল স্বল্প পরিসর নিউক্লিয় আয়তনের মধ্যে কার্যরত। এ বলের পাল্লা মাত্র 1 × 10-2 সেমি। এর অর্থ হলো 1 × 10-2 সেমি পর্যন্ত দূরত্বে নিউক্লিয় বলটি অত্যন্ত তীব্র অথচ এর বেশী দূরত্বে বলের মান শূন্য হয়। অর্থাৎ এ বল দ্বারা  নিউক্লিয়নগুলো শুধুমাত্র নিকটবর্তী নিউক্লিয়নগুলোর সাথেই আবদ্ধ থাকে, দূরবর্তীগুলোর সাথে নয়।

৩. নিউক্লিয় বল আধান নিরপেক্ষ বা চার্জ নিরপেক্ষঃ

নিউক্লিয় বল আধান নিরপেক্ষ কারণ ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট প্রোটন ও নিরপেক্ষ নিউট্রনের জন্য এ বলের মান একই হয়।

৪. নিউক্লিয় বল নিউক্লিয়াসের স্পিনের উপর নির্ভরশীলঃ

নিউক্লিয় বল দুটি নিউক্লিয়নের ঘূর্ণনের উপর নির্ভর করে। দুটি নিউক্লিয়নের ঘূর্ণনের দিক একই হলে তার ভিতরকার আকর্ষী বল বেশি থাকে এবং ঘূর্ণনের দিক পরস্পরের বিপরীত হলে আকর্ষী বল তুলনামূলকভাবে কম হয়। সুতরাং উভয় অবস্থাতেই আকর্ষী বল থাকে। তবে একই দিকে ঘূর্ণন থাকলে নিউক্লিয়নদের আকর্ষণ বেশি থাকে।

আজকের মত এ পর্যন্তই। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এবং TechBartaBD-র সাথেই থাকবেন।

আল্লাহ্‌ হাফেজ…

Share This

One thought on “নিউক্লিয় বল (Nuclear Froce)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *