বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবদান।

বর্তমান যুগ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর যুগ। প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া বিভিন্ন তথ্যকে কাজে লাগিয়ে মানুষ সৃষ্টি করছে সহজ, সুন্দর এবং প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বজগৎ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবদানে বর্তমান বিশ্ব আজ একটি গ্রামের মতই। আমরা খুব সহজে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অল্প সময়ে ঘরে বসে পেয়ে যাচ্ছি প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য। তাই বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবদান অপরিসীম।

বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

বিশ্বগ্রাম বা Global Village হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর এমন একটি সাংস্কৃতিক বা সামাজিক ব্যবস্থা, যেখানে বিশ্বের সকল প্রান্তের মানুষই একটি একক সমাজে বসবাস করে এবং ICT ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই তাদের চিন্তা-ভাবনা,সংস্কৃতি-কৃষ্টি ইত্যাদির পারস্পারিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে একে অপরকে সহযোগিতা করে থাকে। তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্রমে উন্নতি এবং দ্রুত বিস্তারর হচ্ছে যার দরুন পৃথিবী ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে। এর ফলে আমরা সহজেই দূরবর্তী স্থানে থেকেও তথ্যের মিথস্ক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছি। পৃথিবীব্যাপী স্বল্প সময়ে এই যোগাযোগ সুবিধার ফলেই বিশ্বকে একটি গ্রাম হিসেবে তুলনা করা হচ্ছে। এজন্যে বর্তমান বিশ্বকে বলা হয় গ্লোবাল ভিলেজ ।
বিশিষ্ট কানাডিয়ান দার্শনিক Herbert Marshall McLuhan  (July ২১, ১৯১১; December ৩১, ১৯৮০) সর্বপ্রথম বিশ্বগ্রাম ধারণাটি  তুলে ধরেন। তিনি ১৯৬২ সালে তার The Gutenberg Galaxy: The Making of Typographic Man (১৯৬২) নামক বইয়ে প্রথম বিশ্বগ্রামের ধারণা দেন।
Marshall McLuhan-এর মতে বিশ্বগ্রাম বলতে এমন একটি ধারণাকে বোঝানো হয়, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত‌ের লোকজন পরস্পরের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ, কথোপকথন, গণমাধ্যম ও ইলেকট্রনিক যোগাযোগের মাধ্যমে যুক্ত থাকে এবং ক্রমেই একটি একক কমিউনিটিতে পরিণত হয়। এক কথায়, বৈদ্যুত‌িক প্রযুক্তি এবং তথ্যের দ্রুত বিচরণ দ্বারা বিশ্ব একটি গ্রাম বা ভিলেজের রূপ লাভ করেছে। দুনিয়া জুড়ে স্বল্প সময়ে তথ্য প্রযুক্তিগত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা বিশ্বকে একটি ছোট গ্রাম হিসেবে আমাদের কাছে তুলে ধরেছে। বিশ্বগ্রাম বলতে মূলত উন্নত বিশ্ব এবং প্রযুক্তিতে অগ্রসর কিছু উন্নয়নশীল দেশকে বোঝায়। এসব দেশ ছাড়াও অনেক অনুন্নত দেশ রয়েছে যাদের কাছে এখনো প্রযুক্তির সুবিধা এখনো পর্যাপ্তভাবে প‌ৌঁছায়নি। উন্নত ও প্রযুক্তিবাদী দেশগুলোর মুনাফা অর্জনের অন্যতম উপায় তথ্যপ্রযুক্তিগুলো খুব দ্রুত অনুন্নত দেশগুলোতে ছড়িয়ে দেওয়া। অনেক উন্নয়নশীল দেশ রয়েছে যাদের অনেক নাগরিক ও অনেক অঞ্চল তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা থেকে বঞ্চিত, তা সত্ত্বেও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুনিয়া জুড়ে এক অভাবনীয় অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। শহর ও গ্রামের ভেদরেখা বিলুপ্ত করে সবকিছু একাকার করে দিয়ে একদিন নির্মিত হবে সেই বিশ্বগ্রাম! সেখানে শোষণ ও বৈষম্য অনেকাংশে বিলুপ্ত হয়ে যাবে, দারিদ্র্য- বিমোচন হবে, অশিক্ষার অন্ধকার দূরীভূত হবে, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-লিঙ্গ ও জাতিসত্তাগত সব ধরনের বিভেদ মুছে যাবে। ফলে আশা করা যায় যে বর্তমান শতাব্দীতে প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগের যে গণজোয়ার চলছে, এই জোয়ারের স্রোতে সারা পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্ত‌ের প্রত্যেক মানুষই অন্তর্ভুক্ত হবে এবং আমাদের এই বিশ্বগ্রাম কথাটি বাস্তবে পরিণত হবে।
এই সব কিছুর পিছনে রয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবদান। দিন দিন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উন্নত হচ্ছে। এই উন্নয়নের ধারা যত অব্যাহত থাকবে তত দ্রুত তথ্য আদান প্রদান করা যাবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব দিন দিন আরও ছোট হতে থাকবে। বর্তমানে যেভাবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নতি ঘটছে তেমন সময়ের আর বেশি দেরি নাই  যখন সমস্ত বিশ্বই গ্লোবাল ভিলেজের অন্তর্ভুক্ত হবে। গ্লোবাল ভিলেজে বা বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার পিছনে রয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।
আজকেই আর্টিকেল এ পর্যন্তই। পরবর্তীতে দেখা হবে ভিন্ন কোন বিষয় নিয়ে। সে পর্যন্ত ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আর TechBartaBD -র সাথেই থাকবেন।
আল্লাহ্‌ হাফেজ…

0 thoughts on “বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবদান।”

  1. What’s up, every time i used to check website posts here in the early hours in the break of day, as i enjoy to learn more and more.

    Reply

Leave a Comment