ক্লাউড কম্পিউটিং কি এবং এর ব্যবহার

আসছালামুয়ালাইকুম, আজ আমি আপনাদের মাঝে “ক্লাউড কম্পিউটিং কি এবং এর ব্যবহার” সম্পর্কে আলোচনা করব। তাহলে চলুন জেনে নেই…

ক্লাউড কম্পিউটিং কি?

ক্লাউড কম্পিউটিং কম্পিউটার ব্যাবহারের কতকগুলো সমন্বিত উপাদানের সম্মিলিত প্রয়াস যা কিছু সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কাজ করে। এটি একটি বিশেষ ইন্টারনেট ভিত্তিক কম্পিউটার পরিসেবা।। ক্লাউড কম্পিউটিং, কম্পিউটিং শক্তি, অনলাইন পরিসেবা, ডেটা অ্যাক্সেস ও ডেটা স্পেস প্রদান ইত্যাদি ক্লাউড কম্পিউটিং পরিসেবা হিসাবে যে কেউ ব্যবহার করতে পারে। এই উন্নত পরিসেবাটি কিছু কম্পিউটারকে গ্রিড সিস্টেমের মাধ্যমে সংযুক্ত রাখে। এটিকে প্যারালাল কম্পিউটিং ও ডিস্ট্রিবিউটেড কম্পিউটিং এর সাথে তুলনা করা হয়ে থাকে।

ক্লাউড কম্পিউটিং এর ক্ষেত্রে ক্রেতারা সাধারণত ইন্টারনেট মাধ্যমে ক্লাউড সার্ভিস প্রোভাইডারের ক্লাউডের সাথে যুক্ত হন।

কয়েক ধরণের ক্লাউড কম্পিউটিং

পাবলিক ক্লাউড কম্পিউটিং, কম্যুনিটি ক্লাউড কম্পিউটিং, হাইব্রিড ক্লাউড কম্পিউটিং এবং প্রাইভেট ক্লাউড কম্পিউটিং।

যে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সার্ভার ভাড়া নিয়ে কম খরচে ব্যবহার করার বাবস্থা করা যায় তাকে পাবলিক ক্লাউড বলা হয়। যেমন, গুগলের কোন সার্ভার ভাড়া নিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সার্ভিস পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিশয়টি হুমকির সম্মুখীন থাকে।

কোন প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র নিজেদের ব্যবহারের জন্য যদি কোন ক্লাউড ব্যবহার করে থাকে তবে তাকে প্রাইভেট ক্লাউড বলা হয়।  এক্ষেত্রে অন্য কম্পানি ক্লাউড রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে থাকে এবং ইন্টারনেট ব্যতীত অন্যান্য নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ডেটা ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

যে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে একজন ব্যবহারকারীর নিকট প্রচলিত কম্পিউটার থাকে না। ছোট একটি ডিসপ্লে ইউনিট থাকে যেটি অন করার সাথে সাথে যে ক্লাউড কম্পিউটিং নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হয়ে যায়। এ নেটওয়ার্কটি বিশ্বের কোন একটি প্রান্তে অবস্থিত থেকে বিশ্বের অন্য সকল নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হতে পারে। ব্যবহারকারীর ডিসপ্লে ইউনিটে হার্ডডিস্ক, সফটওয়্যার কিছুই থাকে না।

ডিসপ্লে ইউনিট অন করে ব্যবহারকারী বিশ্বের অন্য প্রান্তে অবস্থিত একটি কম্পিউটারে সংযুক্ত হয়। সে কম্পিউটারে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার অন্যান্য সকল কিছু থাকে। ডিসপ্লে ইউনিটের মাধ্যমে ঐ কম্পিউটারটিতে ঢুকে প্রচলিত কম্পিউটারের সকল কাজ সম্পন্ন করা যায়। এর ফলে কষ্ট করে ল্যাপটপ বহন করার প্রয়োজন পড়ে না। ডিসপ্লে ইউনিটটি কয়েক ইঞ্চি টাচ প্যানেল ডিসপ্লে।

ব্যবহার ঃ

ক্লাউড কম্পিউটিং আধুনিক প্রযুক্তিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। গুগল এর বিভিন্ন প্রয়োগ যেমন, জি-মেইল, পিকাসা থেকে শুরু করে পৃথিবীর আবহাওয়া বা কোনো দেশের আদমশুমারির মতো বিশাল তথ্য ব্যবস্থাপনা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইত্যাদি নানান ক্ষেত্রে এর অপরিসীম ব্যবহার আছে। আবার চিকিৎসা ক্ষেত্রে, যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

সুবিধা সমূহঃ

  •  ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের কারণে একজন ব্যবহারকারী খুব সহজে বিশ্বের অত্যাধুনিক সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন।
  • খুব সহজে দ্রুতগতিতে ডেটা ট্র্যান্সফার করা যায়।
  • টেকনোলজি অবকাঠামো তৈরির ব্যয় কম।
  • ডেটা স্টোরেজ করা যায়। এতে খরচ কম হয়। অর্থাৎ হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের জন্য অর্থ ব্যয় করতে হয় না।
  • বিশ্বের যে কোন প্রান্তে অবশান করে কম্পিউটারের কাজ করতে পারে।
  • সিকিউরিটি বেশি। হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার জন্য ব্যবহারকারীর আলাদাভাবে কোন সিকিউরিটি প্রয়োজন পড়ে না।
  • হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার রক্ষনাবেক্ষণ ঝামেলা নেই।
  • স্বল্প মূল্যে লাইসেন্সকৃত সফটওয়্যার ব্যবহার করা যায়।

অসুবিধা সমূহঃ

  • ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে ডেটা, তথ্য বা অ্যাপ্লিকেশন ইত্যাদির উপর ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রন থাকেনা।
  • ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে একবার ডেটা পাঠানো হলো তা কিভাবে প্রসেস হচ্ছে তা ব্যবহারী বুঝতে পারে না।
  • ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে তথ্যের গোপনীয়তা প্রকাশের সম্ভবনা থাকে।

আজকের মতো এই পর্যন্তই। আবারও আপনাদের মাঝে হাজির হবো অন্য কোন বিষয় নিয়ে সে পর্যন্ত ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন এবং TechbartaBD এর সাথেই থাকবেন।

আল্লাহ হাফেজ…

Share This

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *