অপটিক্যাল ফাইবার কি এবং এর গঠন উপাদান।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির এই যুগে তথ্য আদান প্রদানের জন্য অপটিক্যাল ফাইবার একটি  অন্যতম মাধ্যম। আজকের এই আর্টিকেলে অপটিক্যাল ফাইবার কি এবং এর গঠন উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

অপটিক্যাল ফাইবার কি ?

অপটিক্যাল ফাইবার হচ্ছে একটি নমনীয়, স্বচ্ছ ফাইবার যা ডাই ইলেকট্রিক পদার্থ যেমন গ্লাস (সিলিকা) বা প্লাস্টিকের দ্বারা তৈরি করা হয় যা মানুষের চুলের তুলনায় কিছুটা পুরু।

অপটিক্যাল ফাইবার মধ্যে আলো প্রেরণ করার মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য থানে তথ্য আদান প্রদান করা হয়। বর্তমানে ফাইবার অপটিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বৈদ্যুতিক তারের চেয়ে অধিক উচ্চ ব্যান্ডউইথ হওয়ার কারণে অধিক দুরুত্বে এই মাধ্যম ব্যবহৃত হচ্ছে। ধাতব তারের পরিবর্তে তন্তু ব্যবহার করা হয় এর ফলে এটি তড়িৎ চৌম্বক প্রভাব হতে মুক্ত। এর ফলে এটি আলোর গতিতে তথ্য আদান প্রদান করে।

অপটিক্যাল ফাইবারের তিনটি অংশ থাকে। যথাঃ

  1. কোরঃ সবচেয়ে ভিতরের অংশ হচ্ছে কোর যা ডাই-ইলেক্ট্রনিক পদার্থ দ্বারা তৈরি।  কোরের ব্যাস ৮ থেকে ১০০ পর্যন্ত মাইক্রোন হয়ে থাকে। আলোক সিগন্যাল সঞ্চালনের প্রধান কাজটি করে কোর।
  2. ক্ল্যাডিংঃ কোরকে আবদ্ধ করে থাকা বাহিরের ডাই-ইলেক্ট্রনিক আবরণ ক্ল্যাডিং নামে পরিচিত। ক্ল্যাডিং কোর থেকে আলোক রশ্মি প্রতিফলিত করে তা পূনরায় কোরে ফেরত পাঠায়। কোরের প্রতিসরাংক ক্ল্যাডিং-এর চেয়ে বেশি থাকে।
  3. জ্যাকেটঃ প্লাস্টিক এবং বিভিন্ন ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি সবচেয়ে বাইরের অংশটি হচ্ছে জ্যাকেট। এটি আবরণ হিসেবে কাজ করে।

 

অপটিক্যাল ফাইবার -এর গঠন উপাদান

অপটিক্যাল ফাইবার তৈরির অন্তরক পদার্থ হিসাবে যে সব পদার্থ বহুলভাবে ব্যবহার করা হয় সেগুলো হচ্ছে সিলিকা এবং মাল্টি কমপোনেন্ট কাঁচ। এই সব অন্তরক পদার্থের কিছু গুনগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে সেগুলোর মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে দেওয়া হলোঃ

  • অতি স্বচ্ছতা
  • রাসায়নিক সুস্থিরতা বা নিষ্ক্রিয়তা
  • সহজ প্রক্রিয়াকরণ যোগ্যতা

অপটিক্যাল ফাইবার তৈরির উপাদান হিসেবে যেসব মাল্টি কমপোনেন্ট কাঁচ বেশি ব্যবহৃত সেগুলো হচ্ছে

  • বোরো সিলিকেট
  • সোডালাইম সিলিকেট
  • সোডা অ্যালমিনা সিলিকেট ইত্যাদি

এছাড়াও অপটিক্যাল ফাইবার তৈরিতে সোডালাইম সিলিকেট, প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

ফাইবার অপটিক ক্যাবলের বৈশিষ্ট্য

  • অত্যাধিক উচ্চ গতিতে ডেটা ট্রান্সমিট করতে সক্ষম।
  • ইলেক্ট্রনিক সিগন্যালের পরিবর্তে আলোক সিগন্যাল ট্রান্সমিট করে।
  • শক্তির ক্ষয় এবং অপচয় তুলনামূলক ভাবে কম।
  • তড়িৎচুম্বকীয় প্রভাব হতে মুক্ত।
  • আণবিক তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধে অপটিক্যাল ফাইবার কার্যকর। 
  • কোন তড়িৎ-চুম্বকীয় বিকিরন করে না।

ফাইবার অপটিক ক্যাবল ব্যবহারের সুবিধা

  • ডেটা ট্রান্সমিট স্পিড অনেক বেশী কারণ ডেটা ট্রান্সমিট হয় আলোর গতিতে।
  • ক্যাবলের ওজন এবং আয়তন কম।
  • অন্যান্য ক্যাবলের চেয়ে এর শক্তির ক্ষয় এবং অপচয় তুলনামূলক ভাবে কম।
  • নির্ভুলভাবে ডেটা ট্রান্সমিট করা যায়।
  • তথ্য সংরক্ষনের জন্যে গোপনীয়তা রক্ষা করা যায়।
  • পরিবেশের তাপ, চাপ ইত্যাদি ডেটা ট্রান্সমিটে বাধা প্রদান করতে পারে না। 

ফাইবার অপটিক ক্যাবল ব্যবহারের অসুবিধা

  • ফাইবার অপটিক ক্যাবল অত্যন্ত দামী। তবে বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে এর দাম ধীরে ধীরে কমে আসছে।
  • ফাইবার অপটিক ক্যাবলকে অন্যান্য ক্যাবলের মত বাকানো যায় না। 
  • এই ক্যাবল ইন্সটল করা অন্যান্য ক্যাবলের থেকে তুলনামূলক ভাবে ঝামেলাপূর্ণ। 

আজকে এ-পর্যন্তই পরবর্তীতে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের প্রকারভেদ এবং ডেটা কমিউনিকেশন ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এবং  TechBartaBD-এর সাথেই থাকুন। 

আল্লাহ্‌ হাফেজ…

Share This

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *